ইঞ্জিন হলো অনেকগুলো যন্ত্রাংশের একটি জটিল সমন্বয়। এসএসসি (ভোকেশনাল) বা অটোমোবাইল ট্রেডের শিক্ষার্থীদের জন্য ইঞ্জিনের প্রধান প্রধান যন্ত্রাংশ চিনতে পারা এবং সেগুলোর কাজ বোঝা অত্যন্ত জরুরি। ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশগুলোকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়: স্থির যন্ত্রাংশ (Stationary Parts) এবং গতিশীল যন্ত্রাংশ (Moving Parts)।
নিচে সহজ ভাষায় গুরুত্বপূর্ণ ইঞ্জিন যন্ত্রাংশের পরিচয় ও কাজ তুলে ধরা হলো:
১. প্রধান স্থির যন্ত্রাংশসমূহ (Stationary Parts)
সিলিন্ডার হেড (Cylinder Head)
এটি ইঞ্জিনের উপরের অংশ যা সিলিন্ডার ব্লকের সাথে আটকানো থাকে। এর ভেতরে দহন কক্ষ (Combustion Chamber), স্পার্ক প্লাগ বা ইনজেক্টর এবং ভালভ থাকে। এটি সিলিন্ডারকে বায়ুরোধী করে ঢেকে রাখে।
সিলিন্ডার ব্লক (Cylinder Block)
এটি ইঞ্জিনের মূল কাঠামো বা বডি। এর ভেতরেই পিস্টন ওঠানামা করে। ব্লকের ভেতরে লুব্রিকেটিং অয়েল এবং কুলিং ওয়াটার চলাচলের জন্য গর্ত বা প্যাসেজ থাকে।
অয়েল প্যান বা সাম্প (Oil Pan/Sump)
ইঞ্জিনের একদম নিচের অংশ যেখানে লুব্রিকেটিং অয়েল বা মবিল জমা থাকে। এখান থেকেই পাম্পের সাহায্যে তেল ইঞ্জিনের বিভিন্ন অংশে পৌঁছায়।
২. প্রধান গতিশীল যন্ত্রাংশসমূহ (Moving Parts)
পিস্টন (Piston)
এটি সিলিন্ডারের ভেতরে ওঠানামা করে। ফুয়েল পোড়ানোর ফলে যে শক্তির সৃষ্টি হয়, পিস্টন সেই শক্তি গ্রহণ করে নিচের দিকে নামে। পিস্টনের উপরে পিস্টন রিং থাকে যা সিলিন্ডারকে লিকপ্রুফ রাখে।
কানেক্টিং রড (Connecting Rod)
এটি পিস্টন এবং ক্র্যাঙ্ক শ্যাফটকে যুক্ত করে। পিস্টনের লিনিয়ার মোশনকে (সোজা গতি) ক্র্যাঙ্ক শ্যাফটে পৌঁছে দেওয়াই এর কাজ।
ক্র্যাঙ্ক শ্যাফট (Crankshaft)
এটি ইঞ্জিনের অন্যতম প্রধান অংশ। এটি পিস্টনের ওপর-নিচ গতিকে ঘূর্ণন গতিতে (Rotary Motion) রূপান্তর করে। এই ঘূর্ণন শক্তিই শেষ পর্যন্ত গাড়ির চাকায় পৌঁছায়।
ফ্লাইহুইল (Flywheel)
ক্র্যাঙ্ক শ্যাফটের এক প্রান্তে এটি লাগানো থাকে। এটি ইঞ্জিনের শক্তি সঞ্চয় করে রাখে এবং ইঞ্জিনের ঘূর্ণন গতিকে মসৃণ রাখতে সাহায্য করে।
ভালভ (Inlet and Exhaust Valves)
-
ইনলেট ভালভ: এটি দিয়ে বাতাস এবং জ্বালানির মিশ্রণ সিলিন্ডারে ঢোকে।
-
এক্সজস্ট ভালভ: এটি দিয়ে পোড়া গ্যাস সিলিন্ডার থেকে বের হয়ে যায়।
৩. ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশের রক্ষণাবেক্ষণ ও দক্ষতা অর্জনের উপায়
ইঞ্জিন যন্ত্রাংশের ওপর পূর্ণ দক্ষতা অর্জনের জন্য নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখা প্রয়োজন:
-
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: যন্ত্রাংশ খোলার পর ডিজেল বা কেরোসিন দিয়ে ভালো করে পরিষ্কার করতে হবে।
-
পরিমাপ (Measurement): যন্ত্রাংশগুলো ক্ষয়ে গেছে কি না তা বোঝার জন্য মাইক্রোমিটার বা ভার্নিয়ার ক্যালিপার্স দিয়ে সূক্ষ্মভাবে মাপ নিতে শিখতে হবে।
-
লুব্রিকেশন: ইঞ্জিনের গতিশীল যন্ত্রাংশগুলো যেন ঘর্ষণে নষ্ট না হয়, সেজন্য সঠিক গ্রেডের লুব্রিকেটিং অয়েল ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
-
গ্যাসকেট পরিবর্তন: ইঞ্জিন খোলার পর প্রতিবার নতুন গ্যাসকেট ব্যবহার করতে হয় যেন লিকেজ না থাকে।
সংক্ষিপ্ত তথ্য টেবিল
| যন্ত্রাংশের নাম | কাজ |
| পিস্টন | জ্বালানির শক্তি গ্রহণ করে ওঠানামা করা। |
| ক্র্যাঙ্ক শ্যাফট | লিনিয়ার গতিকে ঘূর্ণন গতিতে রূপান্তর করা। |
| ক্যাম শ্যাফট | ভালভ খোলা এবং বন্ধ হওয়া নিয়ন্ত্রণ করা। |
| স্পার্ক প্লাগ | পেট্রোল ইঞ্জিনে জ্বালানি জ্বালাতে স্ফুলিঙ্গ তৈরি করা। |