হ্যাক-স কী?
হ্যাক-স হলো ধাতু কাটার একটি হাতে চালিত যন্ত্র। এটি মূলত একটি ফ্রেম, একটি হ্যান্ডেল এবং একটি ব্লেডের সমন্বয়ে গঠিত। লোহার পাইপ, রড বা পাতের নির্দিষ্ট মাপ অনুযায়ী কাটার জন্য এটি ব্যবহার করা হয়।
হ্যাক-স ব্যবহারের সঠিক নিয়ম
ধাতু কাটার সময় নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করলে কাজ নির্ভুল ও নিরাপদ হয়:
১. ব্লেড নির্বাচন ও লাগানো
-
ধাতুর ধরন অনুযায়ী সঠিক দাঁতের (TPI – Teeth Per Inch) ব্লেড বেছে নিতে হবে।
-
ব্লেডের দাঁতগুলো যেন সব সময় সামনের দিকে (Forward direction) মুখ করে থাকে।
-
ব্লেডটি ফ্রেমের সাথে শক্ত করে আটকাতে হবে যাতে কাটার সময় বেঁকে না যায়।
২. ধাতু বা জব (Job) আটকানো
-
যে ধাতুটি কাটা হবে, সেটিকে বেঞ্চ ভাইস (Bench Vice)-এ শক্ত করে আটকাতে হবে।
-
কাটার অংশটি ভাইসের চোয়াল (Jaw) থেকে খুব বেশি দূরে রাখা যাবে না, তাহলে কাটার সময় কাঁপবে এবং শব্দ হবে।
৩. কাটিং শুরু করা (Notching)
-
সরাসরি কাটা শুরু না করে প্রথমে ফাইলের কোণা দিয়ে বা হ্যাক-স দিয়ে একটি ছোট খাঁজ (Notch) তৈরি করে নিতে হবে। এতে ব্লেডটি এদিক-ওদিক সরে যাবে না।
৪. সঠিক অঙ্গভঙ্গি ও চাপ প্রয়োগ
-
দাঁড়ানোর ভঙ্গি হতে হবে আরামদায়ক। শরীরের ভারসাম্য বজায় রেখে এক পা সামনে এবং এক পা সামান্য পিছনে রাখতে হবে।
-
সামনের দিকে যাওয়ার সময় (Forward Stroke) চাপ দিতে হবে এবং পিছনে আসার সময় (Return Stroke) চাপ ছেড়ে দিতে হবে। কারণ হ্যাক-স কেবল সামনের দিকে যাওয়ার সময়ই ধাতু কাটে।
ধাতু কাটার সময় সতর্কতা (Precautions)
-
গতি: খুব দ্রুত হ্যাক-স চালানো যাবে না। মিনিটে সাধারণত ৪০ থেকে ৫০ বার স্ট্রোক দেওয়া আদর্শ।
-
শীতলীকরণ (Coolant): ঘর্ষণের ফলে ব্লেড গরম হয়ে নরম হয়ে যেতে পারে। তাই কাটার সময় পানি বা লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করা ভালো।
-
ব্লেড ভেঙে যাওয়া: ব্লেড বেশি টাইট বা বেশি ঢিলা থাকলে ভেঙে যেতে পারে। আবার মাঝপথে ব্লেড ভেঙে গেলে নতুন ব্লেড দিয়ে ওই একই খাঁজে কাটা শুরু করা উচিত নয় (নতুন ব্লেড আটকে যেতে পারে)।
মনে রাখার মতো কিছু পয়েন্ট (Quick Tips)
| বিষয় | বিবরণ |
| ব্লেডের দিক | দাঁত সামনের দিকে থাকবে। |
| চাপ প্রয়োগ | শুধু ফরোয়ার্ড স্ট্রোকে চাপ দিতে হবে। |
| নিরাপত্তা | কাটার শেষ পর্যায়ে চাপ কমিয়ে সাবধানে কাটতে হবে যাতে ধাতু ভেঙে পায়ে না পড়ে। |