Course Content
অটোমোটিভ – ১:
0/13
অটোমোটিভ – ১

এসএসসি (ভোকেশনাল) মেকানিক্যাল বা ইলেকট্রিক্যাল ট্রেডের জন্য “ড্রিলিং (Drilling)” একটি অপরিহার্য দক্ষতা। কোনো ধাতব খণ্ডে নিখুঁতভাবে ছিদ্র করাই হলো ড্রিলিংয়ের মূল কাজ। নিচে সহজ বাংলা ভাষায় ড্রিলিং করার নিয়ম ও ধাপগুলো আলোচনা করা হলো:


১. প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম

  • ড্রিল মেশিন: এটি হ্যান্ড ড্রিল, বেঞ্চ ড্রিল বা পিলার ড্রিল মেশিন হতে পারে।

  • ড্রিল বিট (Drill Bit): ছিদ্রের মাপ অনুযায়ী সঠিক সাইজের বিট।

  • সেন্টার পাঞ্চ ও হ্যামার: ড্রিল করার আগে পয়েন্ট চিহ্নিত করার জন্য।

  • বেঞ্চ ভাইস বা মেশিন ভাইস: ধাতব খণ্ডটিকে শক্ত করে আটকানোর জন্য।

  • লুব্রিকেন্ট/কুল্যান্ট: কাটার সময় বিটকে ঠান্ডা রাখার জন্য (যেমন: নারিকেল তেল বা সলুবল অয়েল)।


২. ড্রিলিং করার সঠিক ধাপসমূহ

ধাপ ১: মার্কিং ও সেন্টার পাঞ্চিং

প্রথমে স্টিল রুল এবং স্ক্রাইবার দিয়ে ছিদ্রের জায়গাটি চিহ্নিত করুন। এরপর সেই পয়েন্টে সেন্টার পাঞ্চ বসিয়ে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে একটি ছোট গর্ত বা ‘ডট’ তৈরি করুন। এটি ড্রিল বিটটিকে নির্দিষ্ট স্থানে স্থির রাখতে সাহায্য করে।

ধাপ ২: জব আটকানো (Clamping)

ধাতব খণ্ডটিকে ড্রিল মেশিনের ভাইসে খুব শক্ত করে আটকাতে হবে। যদি খণ্ডটি পাতলা হয়, তবে তার নিচে কাঠের টুকরো দেওয়া যেতে পারে যাতে ড্রিল টেবিলের ক্ষতি না হয়।

ধাপ ৩: বিট লাগানো

ড্রিল চাক (Drill Chuck)-এর সাহায্যে ড্রিল বিটটি মেশিনে সেট করুন। চাক কি (Chuck Key) দিয়ে বিটটি ভালো করে টাইট দিন যাতে ঘোরার সময় নড়াচড়া না করে।

ধাপ ৪: স্পিড সেট করা

ধাতুর ধরন এবং বিটের সাইজ অনুযায়ী মেশিনের গতি (RPM) ঠিক করতে হবে। সাধারণত বড় বিটের জন্য কম গতি এবং ছোট বিটের জন্য বেশি গতি ব্যবহার করা হয়।

ধাপ ৫: ড্রিলিং শুরু করা

  • মেশিন চালু করে বিটটিকে সেন্টার পাঞ্চের করা গর্তে ধীরে ধীরে স্পর্শ করান।

  • হ্যান্ডেল দিয়ে হালকা চাপ প্রয়োগ করুন।

  • মাঝে মাঝে হ্যান্ডেলটি সামান্য উপরে তুলুন যাতে ড্রিল করা ধাতুর কুচি (Chips) বের হয়ে আসতে পারে।


৩. কুল্যান্টের ব্যবহার

ধাতু কাটার সময় ঘর্ষণের ফলে বিট খুব গরম হয়ে যায়। বিটের ধার নষ্ট হওয়া রোধ করতে ড্রিল করার সময় নিয়মিত বিরতিতে পানি বা তেল ব্যবহার করতে হবে।


৪. নিরাপত্তা ও সতর্কতা (Safety Precautions)

  1. গ্লাভস পরবেন না: ড্রিল করার সময় হাতে গ্লাভস পরা খুব বিপজ্জনক, কারণ ঘূর্ণায়মান বিটের সাথে গ্লাভস পেঁচিয়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

  2. চুল ও পোশাক: ঢিলেঢালা পোশাক পরা যাবে না এবং বড় চুল থাকলে তা বেঁধে রাখতে হবে।

  3. সেফটি গগলস: ড্রিল করার সময় ধাতুর তপ্ত কণা ছিটকে চোখে আসতে পারে, তাই অবশ্যই নিরাপত্তা চশমা পরতে হবে।

  4. হাত দিয়ে চিপস পরিষ্কার করা: ড্রিল করার সময় তৈরি হওয়া ধাতব কুচি বা চিপস কখনোই হাত দিয়ে সরাবেন না; ব্রাশ ব্যবহার করুন।

  5. শেষ পর্যায়ে চাপ কমানো: ছিদ্র যখন প্রায় শেষ হয়ে আসবে, তখন ফিড বা চাপ কমিয়ে দিতে হবে, না হলে বিটটি জ্যাম হয়ে ভেঙে যেতে পারে।