Course Content
অটোমোটিভ – ১:
0/13
অটোমোটিভ – ১

ইঞ্জিনে সঠিক পরিমাণে এবং সঠিক সময়ে জ্বালানি স্প্রে করার কাজ করে ইঞ্জেক্টর (Injector)। ইঞ্জেক্টর যদি নোংরা হয় বা কার্বন জমে জ্যাম হয়ে যায়, তবে ইঞ্জিন ঠিকমতো স্টার্ট হয় না, কালো ধোঁয়া বের হয় এবং জ্বালানি খরচ বেড়ে যায়। এসএসসি (ভোকেশনাল) অটোমোবাইল ট্রেডের শিক্ষার্থীদের জন্য ইঞ্জেক্টর সার্ভিসিং একটি উন্নতমানের দক্ষতা।

নিচে ইঞ্জেক্টর সার্ভিসিং করার ধাপগুলো সহজভাবে আলোচনা করা হলো:


১. প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উপকরণ

  • স্প্যানার ও সকেট সেট: ইঞ্জেক্টর খোলার জন্য।

  • ইঞ্জেক্টর টেস্টার (Injector Tester): ইঞ্জেক্টরের প্রেশার ও স্প্রে প্যাটার্ন পরীক্ষার জন্য।

  • পরিষ্কারক: কার্বুরেটর ক্লিনার বা বিশেষ ইনজেক্টর ক্লিনিং সলিউশন।

  • ব্রাশ ও পরিষ্কার কাপড়।

  • নতুন ও-রিং (O-ring): লিক রোধ করার জন্য।


২. সার্ভিসিং করার ধাপসমূহ

ধাপ ১: ইঞ্জিন থেকে ইঞ্জেক্টর খোলা

ইঞ্জিন ঠান্ডা হওয়ার পর ফুয়েল রেল (Fuel Rail) থেকে সাবধানে ইঞ্জেক্টরগুলো খুলে নিন। খেয়াল রাখবেন যেন ইঞ্জেক্টরের নোজলের মাথায় আঘাত না লাগে। ইলেকট্রিক্যাল কানেক্টরগুলো খোলার সময় সাবধানে ক্লিপ চাপ দিয়ে খুলুন।

ধাপ ২: বাহ্যিক পরিষ্কারকরণ

ইঞ্জেক্টরের বাইরের অংশে এবং নোজলের মাথায় প্রচুর কার্বন জমে থাকে। কার্বুরেটর ক্লিনার স্প্রে করে একটি নরম ব্রাশ দিয়ে ঘষে এই ময়লা ও কার্বন পরিষ্কার করুন। কখনোই তারের ব্রাশ (Wire Brush) ব্যবহার করবেন না, এতে নোজলের সূক্ষ্ম ছিদ্র নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

ধাপ ৩: নোজল পরীক্ষা ও ক্লিনিং

ইঞ্জেক্টরের ভেতরের ময়লা পরিষ্কার করার জন্য ‘আল্ট্রাসনিক ক্লিনার’ বা ‘ম্যানুয়াল ইনজেক্টর ক্লিনার কিট’ ব্যবহার করা হয়। এতে ক্লিনারের সাথে ইলেকট্রিক পালস দিয়ে ইঞ্জেক্টরের ভেতর থেকে ময়লা বের করে আনা হয়।

ধাপ ৪: স্প্রে প্যাটার্ন পরীক্ষা (Testing)

ইঞ্জেক্টর টেস্টার মেশিনে ইঞ্জেক্টরটি বসিয়ে নিচের তিনটি বিষয় পরীক্ষা করুন:

  • ওপেনিং প্রেশার: নির্দিষ্ট ফুয়েল প্রেশারে ইঞ্জেক্টরটি খুলছে কি না।

  • স্প্রে প্যাটার্ন: জ্বালানি কুয়াশার মতো (Mist) বের হচ্ছে কি না। যদি তলোয়ারের মতো সরু হয়ে বের হয়, তবে বুঝতে হবে এটি ত্রুটিপূর্ণ।

  • লিকেজ টেস্ট: বন্ধ অবস্থায় ইঞ্জেক্টরের মাথা দিয়ে ফোঁটা ফোঁটা তেল পড়ছে কি না।

ধাপ ৫: ও-রিং পরিবর্তন ও স্থাপন

ইঞ্জেক্টরের উপরের ও নিচের রাবারের রিং বা ও-রিং (O-ring) চেক করুন। এগুলো শক্ত হয়ে গেলে বা ফেটে গেলে নতুন রিং লাগিয়ে দিন। স্থাপনের সময় রিংয়ে সামান্য লুব্রিকেন্ট মাখিয়ে নিলে তা সহজে বসে যায়।


৩. ইঞ্জেক্টর নষ্ট হওয়ার লক্ষণসমূহ

  • ইঞ্জিন স্টার্ট হতে দেরি হওয়া (Hard Start)।

  • আইডলিং অবস্থায় ইঞ্জিন অতিরিক্ত কাঁপা।

  • গাড়ির শক্তি কমে যাওয়া (Poor Acceleration)।

  • জ্বালানি বা তেলের গন্ধ পাওয়া।


৪. নিরাপত্তা ও সতর্কতা

  1. উচ্চ প্রেশার: ইঞ্জেক্টর পরীক্ষার সময় এর সামনে হাত রাখবেন না। জ্বালানির উচ্চ প্রেশার চামড়া ভেদ করে ভেতরে ঢুকে রক্তে বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে।

  2. অগ্নি নিরাপত্তা: পেট্রোল বা ডিজেল নিয়ে কাজ করার সময় আশেপাশে আগুন বা স্পার্ক হতে পারে এমন কিছু রাখা যাবে না।

  3. ধুলোবালি: ইঞ্জেক্টর খোলার পর ইঞ্জিনের সেই গর্তগুলো পরিষ্কার কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখুন যেন ভেতরে ধুলোবালি না ঢোকে।


মনে রাখার মতো পয়েন্ট

বিষয় করণীয়
পরিষ্কারক নোজল পরিষ্কারে রাসায়নিক সলিউশন ব্যবহার করুন।
সতর্কতা নোজলের ছিদ্রে পিন বা সূঁচ ঢুকিয়ে পরিষ্কার করবেন না।
পরীক্ষা সবসময় স্প্রে প্যাটার্ন ইউনিফর্ম আছে কি না যাচাই করুন।