ইঞ্জিনের আয়ু বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য এয়ার ক্লিনার (Air Cleaner) বা এয়ার ফিল্টার সার্ভিসিং করা অত্যন্ত জরুরি। এটি বাতাস থেকে ধুলোবালি ছেঁকে নিয়ে পরিষ্কার বাতাস ইঞ্জিনে প্রবেশ করায়। এসএসসি (ভোকেশনাল) অটোমোবাইল ট্রেডের শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ।
নিচে সহজ ভাষায় এয়ার ক্লিনার সার্ভিসিং করার পদ্ধতি আলোচনা করা হলো:
১. এয়ার ক্লিনারের প্রকারভেদ
সার্ভিসিং করার আগে জানতে হবে ফিল্টারটি কোন ধরনের:
-
ড্রাই টাইপ (Dry Type): এটি কাগজ বা কাপড়ের তৈরি। সাধারণত ঝেড়ে বা বাতাস দিয়ে পরিষ্কার করা হয়।
-
অয়েল বাথ টাইপ (Oil Bath Type): এটিতে তেল ব্যবহার করা হয় ধুলোবালি আটকানোর জন্য। এটি ধুয়ে পুনরায় তেল দিতে হয়।
২. প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি
-
স্ক্রু ড্রাইভার বা স্প্যানার সেট (ক্লিপ বা নাট খোলার জন্য)।
-
এয়ার কম্প্রেসর (বাতাস দিয়ে পরিষ্কারের জন্য)।
-
পরিষ্কার কাপড় ও ব্রাশ।
-
কেরোসিন বা ডিজেল (অয়েল বাথ ফিল্টারের জন্য)।
৩. সার্ভিসিং করার ধাপসমূহ
ধাপ ১: ফিল্টার বের করা
ইঞ্জিনের ওপরের অংশে অবস্থিত এয়ার ক্লিনারের হাউজিং বা কভারটি খুলুন। ক্লিপ বা উইং নাট (Wing Nut) ঢিলা করে সাবধানে ফিল্টার এলিমেন্টটি বের করে আনুন।
ধাপ ২: পরীক্ষা করা
ফিল্টারটি আলোর বিপরীতে ধরুন। যদি ফিল্টারের ভেতর দিয়ে আলো দেখা না যায় বা এটি অতিরিক্ত কালো হয়ে যায়, তবে বুঝতে হবে এটি পরিবর্তন করার সময় হয়েছে। ছিদ্রযুক্ত ফিল্টার কখনোই ব্যবহার করা যাবে না।
ধাপ ৩: পরিষ্কারকরণ (Cleaning)
-
ড্রাই টাইপ: ফিল্টারটি শক্ত কোনো জায়গায় হালকা টোকা দিয়ে বড় ধুলোগুলো ফেলে দিন। এরপর লো-প্রেশার কম্প্রেসড এয়ার (বাতাস) ব্যবহার করুন। বাতাস সবসময় ফিল্টারের ভেতরের দিক থেকে বাইরের দিকে মারতে হবে।
-
অয়েল বাথ টাইপ: এর ভেতরের তারের জালি (Mesh) কেরোসিন বা ডিজেলে ধুয়ে নিন। হাউজিংয়ের ভেতরের ময়লা তেল ফেলে দিয়ে কাপড় দিয়ে মুছে নতুন পরিষ্কার ইঞ্জিন অয়েল নির্দিষ্ট দাগ (Oil Level) পর্যন্ত ভরে দিন।
ধাপ ৪: হাউজিং পরিষ্কার করা
যে বাক্সে ফিল্টারটি থাকে (Housing), তার ভেতরে জমে থাকা ধুলোবালি ভেজা কাপড় দিয়ে ভালো করে মুছে নিন। খেয়াল রাখবেন যেন কোনো ময়লা সরাসরি ইঞ্জিনের ইনটেক মেনিফোল্ডে না ঢোকে।
ধাপ ৫: পুনরায় স্থাপন (Installation)
পরিষ্কার করা ফিল্টারটি সঠিকভাবে হাউজিংয়ে বসান। কভারটি লাগিয়ে নাট বা ক্লিপগুলো ভালোভাবে টাইট দিন যেন কোনো ফাঁক না থাকে। ফাঁক থাকলে সেখান দিয়ে অপিরষ্কার বাতাস ইঞ্জিনে ঢুকে সিলিন্ডারের ক্ষতি করবে।
৪. নিরাপত্তা ও বিশেষ সতর্কতা
-
বাতাসের চাপ: ড্রাই ফিল্টারে খুব বেশি জোরে বাতাস দেবেন না, এতে ফিল্টার পেপার ছিঁড়ে যেতে পারে।
-
কখনই ভেজাবেন না: ড্রাই টাইপ পেপার ফিল্টার কখনোই পানি বা তেল দিয়ে ধোবেন না, এতে এটি নষ্ট হয়ে যাবে।
-
সঠিক ফিটিং: ফিল্টার বাঁকা হয়ে থাকলে বা সিল (Gasket) ঠিকমতো না বসলে ইঞ্জিন সরাসরি ময়লা বাতাস টেনে নেবে, যা ইঞ্জিনের আয়ু কমিয়ে দেয়।
৫. কতদিন পর পর সার্ভিসিং করবেন?
সাধারণত প্রতি ৫,০০০ কিলোমিটার পর পর এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার করা এবং ১০,০০০ থেকে ১৫,০০০ কিলোমিটার পর পর পরিবর্তন করা ভালো। তবে খুব ধুলোবালিপূর্ণ রাস্তায় গাড়ি চললে আরও দ্রুত সার্ভিসিং প্রয়োজন।