এসএসসি (ভোকেশনাল) অটোমোবাইল ট্রেডের শিক্ষার্থীদের জন্য সোলেনয়েড লিংকেজ (Solenoid Linkage) পরিষ্কার ও পরীক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সোলেনয়েড হলো স্টার্টার মোটরের সেই অংশ যা ইলেকট্রিক সুইচ হিসেবে কাজ করে এবং পিনিয়ন গিয়ারকে ফ্লাইহুইলের সাথে যুক্ত করে।
নিচে সোলেনয়েড লিংকেজ পরিষ্কার ও পরীক্ষা করার ধাপগুলো সহজ বাংলা ভাষায় আলোচনা করা হলো:
১. প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি
-
কম্বিনেশন প্লায়ার্স ও স্প্যানার সেট।
-
পরিষ্কারক: ডিজেল বা কেরোসিন এবং একটি ব্রাশ।
-
লুব্রিকেন্ট: ভালো মানের গ্রিজ।
-
মাল্টিমিটার বা ব্যাটারি: কয়েল এবং কানেকশন পরীক্ষার জন্য।
২. সোলেনয়েড লিংকেজ পরিষ্কারকরণ (Cleaning)
সোলেনয়েড ইউনিটের ভেতরে ধুলোবালি বা শক্ত হয়ে যাওয়া গ্রিজ জমে থাকলে পিনিয়ন গিয়ার ঠিকমতো মুভ করতে পারে না।
-
লিংকেজ খোলা: সোলেনয়েড কেসিংয়ের বোল্ট খুলে এর ভেতরের প্লাঞ্জার (Plunger) এবং লিভার (Shift Lever) আলাদা করুন।
-
ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার: ডিজেল বা কেরোসিনে ব্রাশ ভিজিয়ে প্লাঞ্জার, রিটার্ন স্প্রিং এবং লিংকেজের প্রতিটি জয়েন্ট ভালো করে পরিষ্কার করুন।
-
শুকানো: পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে যন্ত্রাংশগুলো শুকিয়ে নিন। কোনো মরিচা থাকলে শিরিষ কাগজ দিয়ে হালকা করে ঘষে নিন।
-
লুব্রিকেশন: প্লাঞ্জারের গায়ে এবং লিভারের জয়েন্ট পয়েন্টে সামান্য নতুন গ্রিজ লাগিয়ে দিন যাতে এটি সহজে ওঠানামা করতে পারে।
৩. লিংকেজ পরীক্ষা ও নিরীক্ষা (Inspection)
পরিষ্কার করার পর নিচের বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে পরীক্ষা করতে হবে:
-
রিটার্ন স্প্রিং পরীক্ষা: স্প্রিংটি যথেষ্ট শক্তিশালী কি না তা টেনে দেখুন। যদি স্প্রিং ঢিলা হয়ে যায়, তবে স্টার্ট দেওয়ার পর পিনিয়ন গিয়ার ফিরে আসবে না, যা বিপজ্জনক।
-
লিভার মুভমেন্ট: শিফট লিভারটি হাতের সাহায্যে নাড়িয়ে দেখুন। এটি কি কোনো বাধা ছাড়াই মসৃণভাবে নড়ছে?
-
প্লাঞ্জার পরীক্ষা: প্লাঞ্জারের গায়ে কোনো গভীর আঁচড় বা ক্ষত আছে কি না দেখুন। অতিরিক্ত ক্ষয়ে গেলে প্লাঞ্জার আটকে যেতে পারে।
-
কন্টাক্ট পয়েন্ট: সোলেনয়েডের ভেতরের কপার কন্টাক্টগুলো পুড়ে কালো হয়ে গেছে কি না দেখুন। পুড়ে গেলে বিদ্যুৎ প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়।
৪. সোলেনয়েড অপারেশন টেস্ট (Testing)
একটি ১২ ভোল্টের ব্যাটারি ব্যবহার করে সোলেনয়েডটি কাজ করছে কি না তা নিশ্চিত হতে পারেন:
-
পিল-ইন টেস্ট (Pull-in Test): ব্যাটারির পজিটিভ তার সোলেনয়েডের ‘S’ টার্মিনালে এবং নেগেটিভ তার বডিতে ধরুন। প্লাঞ্জারটি যদি দ্রুত ভেতরের দিকে টেনে নেয়, তবে বুঝবেন কয়েল ঠিক আছে।
-
হোল্ড-ইন টেস্ট (Hold-in Test): প্লাঞ্জার ভেতরে থাকা অবস্থায় সংযোগ ধরে রাখলে সেটি ভেতরেই আটকে থাকা উচিত।
-
রিটার্ন টেস্ট: সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সাথে সাথে প্লাঞ্জারটি স্প্রিংয়ের চাপে আগের জায়গায় ফিরে আসছে কি না তা পরীক্ষা করুন।
৫. বিশেষ সতর্কতা
-
অতিরিক্ত গ্রিজ: লিংকেজে কখনোই অতিরিক্ত গ্রিজ দেবেন না, কারণ এটি ধুলোবালি ধরে রেখে পরবর্তীতে জ্যাম তৈরি করতে পারে।
-
বৈদ্যুতিক টার্মিনাল: তার লাগানোর সময় নাটগুলো অবশ্যই শক্ত করে টাইট দিন। লুজ কানেকশন হলে স্পার্কিং হয়ে সোলেনয়েড পুড়ে যেতে পারে।
-
পিনিয়ন পজিশন: নিশ্চিত করুন যে লিংকেজটি পিনিয়নকে সঠিক দূরত্বে ঠেলতে পারছে কি না।